,

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার তরুণী ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটিকে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভিনন্দন আশুগঞ্জে ৩০ হাজার ৯৪৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের জামি সভাপতি, বিজন সম্পাদক বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জে মানববন্ধন আশুগঞ্জে জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ময়লার স্তুপ থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার ঘটনাস্থলে না থেকেও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে কারাগারে! কসবায় নির্মানাধীন লাইনের কাজ পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে টিন ও নগদ টাকা বিতরণ

বাড়িতে বাবার লাশ, পরীক্ষা হলে নিপা

আল মামুন : প্রতিটা সন্তানের কাছে তার বাবা অত্যান্ত প্রিয় ও আপনজন। সেই মানুষটির মৃত্যু অত্যান্ত কষ্টের। আর সেই কষ্ট নিয়ে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে নাসিমা আক্তার নিপা নামের এক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে বাবাকে শেষ বারের মত দেখে চোখের জলে চিরবিদায় জানায় সে। পরে বাদ আসর নিহতের নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাজী আসমত কলেজ কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পররীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় নিপা। সে ভৈরবের জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আড়াইসিধা গ্রামের বাছির সরকারের মেয়ে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তার বাবা মো. আব্দুল বাছির সরকার মৃত্যুবরণ করেন।

নিপার স্বজনরা জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ভৈরবেই তার আত্ত্বিয়ের বাসায় ছিল নিপা ও তার মা। সোমবার দিবাগত রাতে বাছির সরকার হঠাৎ করেই স্ট্রোক করেন। এমসময় তাকে অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে ভৈরব ও পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাজিতপুরের ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবারের লোকজন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাছির সরকারের। এসময় নিপা তার সাথেই ছিল। সারারাত কান্নাকাটি করে অস্থির ছিল নিপা। সকালে একদিকে বাড়িতে বাবার লাশ, অন্যদিকে পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজন ও তার আত্ত্বিয় স্বজনদের সহায়তায় বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় সে। বাড়ির এক আত্ত্বিয়ের সহায়তায় হাজী আসমত কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় সে। এসময় সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তবুও যেতে হবে।

তাই ঠিক ৯.৩০ মিনিটে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে নিপা। ১২.৩০ মিনিটে পরীক্ষা শেষ না করেই কক্ষ থেকে বের হয়ে আসে সে। পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে পৌছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে নিপা। তার কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। পরে মঙ্গলবার বাদ আসর নিপার বাবা বাছির সরকারের নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে ভৈরবে কথা হয় তার সাথে। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিপা এই প্রতিবেদককে জানায়, বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসেছি। তার কথা খুব মনে পড়ছে। কোনরকমে ৭০ নাম্বারের উত্তর দিয়েছি। আর লিখতে পারছিলাম না। কখন বাড়িতে গিয়ে বাবাকে দেখব সে কথাই মনে হচ্ছিল তাই চলে আসলাম।

নিপার চাচা মো. ওমর খৈয়াম জানান, সকাল থেকেই নিপা পরীক্ষা না দেয়ার কথা জানাচ্ছিলেন। সকলের পরামর্শে সে কোনভাবে রাজি হয়ে পরীক্ষায় গেছে। আল্লাহ তার সহায় যেন হয়।

নিপা হাজী আসমত কলেজ কেন্দ্রের ১২৮ নাম্বার কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছেন তার কক্ষের পরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মেয়টির বাবা রাতে মারা গেছে বলে শুনেছি। পরীক্ষা কক্ষে সে মাঝে মাঝে চোখের পানি মুছে মুছে পরীক্ষা দিচ্ছিল। আমরা তাকে শান্তনা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সহযোগিতা করেছি।

হাজী আসমত কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে মোবারক আলী জানান, নিপা যথাসময়েই কেন্দ্রে ও তার পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সে পরীক্ষার খাতা জমা দিয়ে চলে গেছে। এসময় পরীক্ষা দেয়া অনেক কঠিন। আল্লাহ তার মঙ্গল করুক।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ