,

সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাঁচ

 

মেহেদী নূর পরশ॥ পহেলা বৈশাখের মেলা থেকে শুরু করে বাঙ্গালীদের বিভিন্ন উৎসবে পুতুল নাঁচ ছিল গ্রামীণ জনপদের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সারা বিশ্বেই পুতুল নাঁচ বিভিন্নভাবে ও মাধ্যমে লোকনাট্যের অন্যতম প্রতিক হিসেবে চলে আসছে। এই উপমহাদেশেও লোকনাট্যের মাধ্যম পুতুল নাঁচের জন্ম বা প্রচলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিপিন পালের হাত ধরে। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ও জৌলসপূর্ণ বিনোদন আজ নানা কারণে কালক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো পুতুল নাঁচে জৌলস না থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে এই লোকনাট্যের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। তাই সরকারী পৃষ্টপোষকতার দাবি করেছেন তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিপিন পাল ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পুতুল নাচের প্রচলন করেন। ধিরে ধিরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। পরে এ শিল্পের হাল ধরেন জেলার কৃষ্ণ নগর গ্রামের গিরীশ আচার্য্য, মো. তারু মিয়া, শহরের মেড্ডা এলাকার ধন মিয়া, কালু মিয়া, মো. রাজ হোসেন ও পৌর শহরের কাজীপাড়া এলাকার শরীফ মালদার। কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা গেলেও এখন শিল্পী সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যসব পেশায় আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে শিল্পীরা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে এই শল্পকে বাচিয়ে রাখা যেত বলে মনে করছেন এই পুতুল নাচের শিল্পীরা।
পুতুল নাচের শিল্পী খেলু মিয়া বলেন ,আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন থেকে বাবার সাথে মেলাতে আসা যাওয়া করতাম। সে সময় থেকে এ খেলা দেখতে দেখতে নিজের মধ্যে শেখার একটা আগ্রহ তৈরী হয়। বাবা হোসেন আলী মারা যাওয়ার পর আমি এ পেশার হাল ধরি। এখন আর তেমন কাজও পাইনা। দলের লোকজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগীতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
বাণী বিণা দলের মাষ্টার কবির হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে পুতুল নাচের মাধ্যমে নাটক এবং বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান করে আসছি। আগে প্রদর্শনী করে ভাল টাকা রোজগার করা যেত। এখন আর আগের মত প্রোগ্রাম পাওয়া যায়না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় কাজ করতে হচ্ছে। সরকারে কাছে আমাদের দাবি বছরে ৬/৭ মাস আমাদের প্রেগ্রাম করার ব্যবস্থা ও পৃষ্টপোষকতা করলে এই পেশায় থেকে পরিবার নিয়ে চলতে পারব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, সারা দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুতুল নাচকে গুরুত্ব দেওয়া হত। কালের বিবর্তনে ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে পুতুল নাচের শিল্পীরা অনেকটা পর্দার আড়ালে চলে যাচ্ছেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমী পুতুল নাচের বিকাশে এবং শিল্পীদেরকে পৃষ্টপোষকতার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তারা এই শিল্পে সম্পৃক্ত আছে তাদের একটা তালিকা তৈরি করা হবে। জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে সাথে নিয়ে একটি প্রস্তাবনা আমরা সংঙ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের কাছে এই তালিকা পাঠাব। দ্রুতই যেন এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ