,

মাত্র বিশ দিনেই মাদক নির্মূলে আশুগঞ্জ থানার ওসির সাফল্য

স্টাফ রিপোর্টার : মুহাম্মদ মাসুদ আলম। আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ। যোগদান করেছেন মাত্র ২০ দিন। এরই মধ্যে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রনে সফলতা পেয়েছে অভূতপূর্ব। যোগদানের পরই মাদকের সাথে কোন আপস না করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
মাসদু আলমের প্রভাবে ইতোমধ্যে এলাকা থেকে সটকে পড়েছে অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী। আটক করেছেন আশুগঞ্জের শীর্ষ মাদক সম্রাট সুমন, রাসেল, মনির, জামির, ফরহাদ ও সম্রাজ্ঞী সুজিসহ প্রায় ৩৬ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে। ইতোমধ্যেই অনেক মাদক ব্যবসায়ী এমনকি সেবনকারীরাও গিয়েছে আত্মগোপনে। অনেকে আবার স্বত:স্ফুর্তভাবে আত্মসমর্পন করে আলোর পথে ফিরে আসার অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়েছে।
দেশের অন্যতম শিল্প ও বন্দর নগরী আশুগঞ্জ। এখানে রয়েছে সারকারকানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিশ্ব খাদ্যগুদামসহ বেশকয়েকটি কেপিআই প্রতিষ্ঠান। রয়েছে চাতালকলসহ অসংখ্য ছোট বড়-সরকারী বেসরকারী মিল কারকানা। ব্যবসায়িক কারণে মেঘনা বিধৌত এ জনপদের রয়েছে প্রাচীণ ইতিহাস ও ঐতিহ্যও।
কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত এ থানাকে মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যাবহার করত চোরাকারবারীরা। নদী বন্দর হওয়ায় এবং জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির সাথে যোগাযোগ সুবিধা ভাল থাকায় এখানে সহজলভ্য হয়ে উঠে মাদকদ্রব্য। এতে করে মাদক সেবন ও ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়ে এলাকার উঠতি শ্রেণীর যুবকেরা। উপজেলায় ভয়াবহ রুপ নেয় মাদকের কুপ্রভাব। যুব সমাজকে গ্রাস করে চরম নৈতিক অবক্ষয়। বেড়ে যায় চুরি, ছিনতাই ও খুনের মত ঘটনা। অসহ্য হয়ে অনেক অভিভাবক পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের।
ওসি মাসুদ আলম আশুগঞ্জ থানায় যোগদান করেন মাত্র বিশদিন আগে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি। তিনি আশুগঞ্জ থানায় যোগদান করেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। স্থানীয় প্রেসক্লাবে উপস্তিত হয়ে মতবিনিময় করেন সংবাদকর্মীদের সাথে। একে একে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি লিডারদের সাথেও আলোচনায় বসেন ধারাবাহিকভাবে। চিহ্নিত করেন থানার নতুন পুরাতন মাদক স্পট, তৈরি করেন মাদকসেবী ও ব্যাবসায়ীদের তালিকা। শুরু করেন অভিযান।

মাদক বিরোধী অভিযানে গত বিশদিনে আশুগঞ্জ থানায় মাদক মামলা হয়েছে ১৬টি। ৩৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। উদ্ধার করেছে ১৯৭ কেজি ৬২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৩৩ পিচ ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশী মদ।
এতে করে উপজেলায় মাদক পুরোপুরি নির্মূল না হলেও সন্তোষজনক নিয়ন্ত্রন হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। মাদকের বিরুদ্ধে নবাগত ওসির এ জিহাদ ঘোষণা ও সাফল্যের ফলে উপজেলা আইনৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং সমন্বয় কমিটির সদস্যগণ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাচ্চু বলেন, বিগত সময়ে যেসব মাদক সম্রাট ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতো, তিনি দায়িত্ব নেবার পরে তাদের আটক করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিনিয়ত অভিযান চলমান থাকলে খুব অল্প সময়েই আশুগঞ্জকে মাদকমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওসি মাসুদ আলম বলেন, আমার দায়িত্ববোধ থেকেই কর্মরত এলাকায় মাদক র্নিমূলে বিশেষভাবে কাজ করে থাকি। ইতিমধ্যে আমি যেখানেই কর্মরত ছিলাম সেখানেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় আমার কাজটি আরো সহজ হয়ে গেছে। আমি যতদিন পুলিশে কর্মরত থাকব মাদকের সাথে কোন আপস করবো না।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ