,

ছাদে শাক-সবজি, ফলমুল ও ফুল চাষে খালেদা সাঈদের সাফল্য

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক : আবাদি জমি কমে যাওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ছাদ কৃষি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছাদ কৃষিতে সাফল্য অর্জন করেছেন অনেকেই। আবার অনেকে সবজি এবং ফলের আবাদ করে পরিবারের দৈনন্দিনের চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হয়েছেন।
এমন একজন সফল ছাদ কৃষাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূত্রবধু মিসেস খালেদা সাঈদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ সায়েদুল হক সাঈদ এর সহধর্মীনি তিনি।
খালেদা সাঈদ রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় নিজের বহুতল আবাসিক ভবনের ৬ তলার ছাদে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন সবুজ বাগান। লাগিয়েছেন ফল, ফুল ও সবজিসহ দুই শতাধিক বাহারি গাছ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা নিজ হাতেই গাছের পরিচর্যা করেন তিনি। তার এ বাগান দেখলে মনে হবে গাছ, প্রকৃতি আর মানুষ যেন একই সূত্রে গাঁথা।
জানা যায়, বিগত ২০১৫ সাল থেকে ছাদ কৃষিতে আত্মনিয়োগ করেন ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর পাশ করা এ ঘরকন্না। এর পর থেকে ফুল, ফল আর সবজি গাছে সাজিয়ে তুলেন, বাড়ির ছাদ, বেলকনি ও লনসহ পুরো ভবনটিকে। বাড়িতে প্রবেশ করলে যে কেউ এ অপূর্ব সবুজের সমাহার দেখে মুগ্ধ হয়ে উঠবে।
খালেদা সাঈদ জানান, বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং শতভাগ নিরাপদ অরগানিক খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে এমন আয়োজন। পরে সবুজ বাগান সোসাইটির সদস্য হয়ে এ ব্যাপারে আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠি। তিনি বলেন, নিজের লাগানো শতাধিক গাছের কাছে যখন আসি, মন প্রশান্তিতে ভরে যায়।
বর্তমানে তার বাগানে ফল, ফুল ও সবজিসহ দুই শতাধিক গাছ রয়েছে। ফলের মধ্যে রয়েছে আম, আঙ্গুর, আনার, ডালিম, পেপে, পেয়ারা, মালটা, কামরাঙ্গা, জামরুল ও করমজা ইত্যাদি।
ফুলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রং এর গোলাপ, রক্তজবা, বেলী, জুঁই, হাসনেহেনা, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা ও নাইট কুইন ইত্যাদি।
আর সবজির মধ্যে রয়েছে লাউ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, বেগুন, ঝিঙ্গে, ছিচিঙ্গা, করলা, টমেটো, সিম, ঢেঁড়শ ইত্যাদি।
রয়েছে বনসাই, ঘৃতকুমার, মেহেদী, চিরতা ও তুলসীসহ নানা প্রজাতির ঔষধি গাছও। এছাড়া সবাইকে অবাক করে খালেদা সাঈদ ছাদের উপর লাগিয়েছেন আঁখ আর কলাগাছও। এতেও ভাল সাফল্য আশা করছেন তিনি।
বাগানের পরিধি বাড়াতে ভবনে ঝুঁলিয়ে গাছ লাগানোর জন্য স্টিলের মাঁচা বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

বৃক্ষ প্রেমিক খালেদা সাঈদের গ্রামের বাড়ি (শ্বশুরবাড়ি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল গ্রামে। ছাদে চাষাবাদের জন্য অধিকাংশ বীজ ও চারা তিনি নিজ এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান। এতে তার স্বামী সায়েদুল হক সাঈদের সহযোগিতা ও উৎসাহের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি ছাদের চাষাবাদে গোবর মেশানো মাটি অর্থাৎ জৈব সার ছাড়া কিছুই ব্যবহার করছিনা। ছাদ কৃষির মাধ্যমে আমরা সহজেই নিজেদের দোরগোড়ায় ভেজালমুক্ত খাদ্য পাচ্ছি। ফলে আমার কোনো ফলমুল, শাক-সবজি আর বাজার থেকে তেমন কিনতে হয় না। তাই আমাদের সকলকে এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা উচিত।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ