,

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গত ০৭ আগস্ট, শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রজাবন্ধু, দৈনিক সরোদসহ বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে ‘মসজিদ কমিটির সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন-বিক্ষোভ’ শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে- তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটিতে যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক তথ্য ছাপানো হয়েছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সম্মানিত সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করছি- প্রকৃত ঘটনা জেনে সরেজমিনে ঘুরে এসে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের জন্য। আপনাদের জ্ঞাতার্থে নিম্নে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হলো ঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর বাজার জামে মসজিদ ০৯.০৬.১৯৭৯ইং তারিখের রেজিঃকৃত ৪১৬২নং ওয়াকফ দলিলমূলে ভূমি প্রাপ্ত হইয়া মসজিদ ও মসজিদের দোকানপাট প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত মসজিদের মালিকানাধীন ভূমি সংক্রান্তে কতিপয় হিন্দু ব্যক্তিকে মালিক সাজিয়ে ইতিপূর্বে মসজিদের ভাড়াটিয়া সিরাজ মিয়া গং মসজিদের দোকানপাটের ভাড়া বন্ধ করিয়া মালিকানা দাবী করলে আমি মোহনপুর বাজার জামে মসজিদের সেক্রেটারী সামছুল হক দেওয়ানী ৫২/১৯৯২ইং ক্রমে ডিক্রী প্রাপ্ত হইয়া আদালতের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহায়তায় মসজিদের ভূমি উদ্ধার করি। উক্ত সিরাজ মিয়া গং চক্র মোহনপুর বাজার জামে মসজিদের ভূমি গ্রাস করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। উক্ত অশুভ চক্রটি পাশাপাশি হেমলতা রায় নামীয় ভদ্রমহিলার নাম ব্যবহার করে মোহনপুর বাজারের ভূমি সংক্রান্তে দেওয়ানী ৪৬/১৯৯ইং মোকদ্দমাক্রমে হেমলতার নামে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমি সংক্রান্তে ডিক্রী হাছিল করে। উক্ত দেওয়ানী ৪৬/১৯৯ইং মোকদ্দমার ডিক্রীর বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপীল ১২৬/২০১৩ইং মোকদ্দমাক্রমে মোহনপুর বাজার মসজিদের ভূমির মালিকানা ও অধিকার নিশ্চিত করি। উক্তরূপে মোহনপুর বাজার জামে মসজিদ মোহনপুর মৌজার সে.মে. ৪৫৮, ২৫৯ও ২৬০ দাগের ভূমিতে নিরঙ্কুশ মালিক- এটা প্রমাণিত এবং মোহনপুর বাজার জামে মসজিদের নামে বিএস ও মিউটেশন খতিয়ান রয়েছে। তা স্বত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভকারীদের লিডার আবদুল্লাহ মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তির লীজি দাবী করে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪ ধারার বিধানমতে পি-৬৫৫/২০১৭ইং মোকদ্দমাক্রমে পরাজিত হয় এবং পরবর্তীতে আপীল করলে তাও নামঞ্জুর হয়। তাছাড়া মানববন্ধনের হোতা আবদুল্লাহ গং নন.জিআর- ২৯৫/২০১৭ইং মোকদ্দমায় বন্ড প্রদানক্রমে মসজিদের ভূমিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করে। মসজিদের মালিকানাধীন ভূমি সংক্রান্তে মানববন্ধনকারী কুচক্রী মহল নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে চাইলে মসজিদের পক্ষে পি-৯২৮/২০১৭ইং মোকদ্দমা করা হয় এবং মানববন্ধনের হোতাগণকে মসজিদের পুকুরে যাতে কোনোরূপ অনধিকার প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আদেশ প্রদান করেন। এমতাবস্থায় আমি মসজিদের সম্পত্তি রক্ষার্থে কয়েক যুগ আইনী লড়াইক্রমে নিজেদের সততা ও মসজিদের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছি। উক্ত কুচক্রী মহলটি মসজিদের সম্পত্তি গ্রাসের ক্ষেত্রে আমাকে একমাত্র বাধা মনে করে ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে মসজিদের কমিটি বিলুপ্তক্রমে নতুন কমিটি করার উদ্যোগ নিলে আমার দরখাস্ত, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্বিক বিষয় উপলব্ধিক্রমে তার সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে বাতিলপূর্বক আমার সেক্রেটারীতে বর্তমান পরিচালিত কমিটি পুনর্বহাল করেন। উক্তরূপে আমি নিজের পকেটের অর্থ ব্যায় করে মসজিদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি মসজিদের মালিকানাধীন ভূমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগে নিলে উক্ত কুচক্রী মহল পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বরাবরে মিথ্যা দরখাস্ত দিয়ে মসজিদ মার্কেটের নির্মাণকাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। উক্ত পরিস্থিতিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বরাবরে রেফার্ড করলে আমার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা নং- ৭৫৪/২০১৯-২০ইং এর সূত্রপাত। উক্ত এনফোর্সমেন্ট মামলায় আমার জবাব এবং চট্টগ্রাম আসা-যাওয়াক্রমে মামলার দায় হইতে মসজিদের মার্কেট নির্মাণ সংক্রান্তে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খন্ডন করিয়া বর্তমান মার্কেট নির্মাণ করতে সক্ষম হই। এভাবে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমিতে নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার পর মার্কেট নির্মিত হয়। বর্তমানে পজিশন ক্রয়কারীগণের পজেশন সরেজমিনে বুঝাইয়া দেওয়া হচ্ছে। মসজিদ কমিটি বা পজেশন বরাদ্ধ গ্রহণকারী বা বাজার কমিটি বা মসজিদের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি ‘মসজিদের অর্থ আত্মসাত হচ্ছে’ মর্মে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ কোনো ফোরামে উত্থাপন করে নাই। পরাজিত কুচক্রীমহল বিশেষ করে আবু বকর, পিতা- রহিছ মিয়া, সাং- অষ্টগ্রাম, মোঃ আবদুল্লাহ, পিতা- জারু মিয়া, আঃ রউফ, পিতা- মতি মিয়া, মোতালিব, পিতা- বন্দে আলী, মোঃ শাহিন, পিতা- তারু মিয়া, আমির আলী, পিতা- আরজ উদ্দিন, সর্বসাং- তেলীনগর এবং মনু মিয়া, পিতা- হামিদ মিয়া, মোঃ ইয়ামিন, পিতা- নুরু মিয়া ও ভুট্টু মিয়া, পিতা- সমশের আলী, সর্বসাং- চানপুর নামীয় ব্যক্তিগণ মসজিদের ভূমি গ্রাস করিতে ব্যর্থ হইয়া মসজিদের পাঁচটি দোকান তাদের কোনো সালামী ছাড়া বরাদ্ধ দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগপূর্বক চাঁদা দাবী করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্তক্রমে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন এবং ঐ মোকদ্দমায় মানববন্ধনের হোতাগণ হাজতবাস করে। উক্তরূপে মানববন্ধনের নেপথ্যের দুষ্ট কারিগরগণ তাদের অসৎ মনোবৃত্তি হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে কিছু লোকজনকে ভুল বুঝাইয়া একত্রীভূতক্রমে কথিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ন্যায় সাজানো নাটক সৃষ্টি করে। উক্তরূপ মানববন্ধনের ব্যানারে প্রকৃত তথ্য না আসিয়া বিকৃত তথ্য উপস্থাপিত হওয়ায় অত্র প্রতিবাদের মূল কারণ।
প্রতিবাদকারী
-সামছুল হক
সেক্রেটারী- মোহনপুর বাজার জামে মসজিদ
মোহনপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ