,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক হতদরিদ্র মেয়ের বিয়ের উপহার সামগ্রী কেনার টাকা দিলেন সিরাজগঞ্জের স্বর্ণা রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হতদরিদ্র মেয়ের পাশে দাড়ালেন সিরাজগঞ্জের স্বর্ণা

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিরিনা আক্তার নামের এক অসহায় দরিদ্র মেয়ের বিয়ের উপহার সামগ্রীর কেনার টাকা দিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার সোনামুখি গ্রামের স্বর্ণা রহমান।
রবিবার(১৬ আগস্ট) দুপুরে সরাইল উপজেলার পাকশিমূল ইউনিয়ন পরিষদে স্বর্ণা রহমানের পাঠানো ত্রিশ হাজার টাকা হতদরিদ্র শিরিনা আক্তারের অসহায় বৃদ্ধ বাবা -মায়ের হাতে তুলে দেন পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম.। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ভাটিয়াঞ্চল) সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি সানাউল্লাহ ভুইয়া, সংবাদকর্মী এম মনসুর আলী, অরুয়াইল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রিন্সিপাল বাশার আহমেদ, ফটো সাংবাদিক ফারহান লাবিব প্রমূখ।
শিরিনা আক্তার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামের নুর ইসলামের তৃতীয় মেয়ে। শিরিনার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রণিক এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগম প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে সেগুলো বিক্রি করে সংসার চালাতো। করোনার কারণে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী নুরজাহান বেগমেরও এখন রোজগার বন্ধ।
জানা যায়,৯ মাস আগে নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের মৃত সাদেক মিয়ার ছেলে কুতুব মিয়ার সাথে বিয়ে হয় শিরিনার। বিয়ের সময় কথা ছিলো ৫ মাস পর জামাইকে ত্রিশ হাজার টাকার ফার্ণিচার কিনে দেবেন। নির্ধারিত সময় ফার্ণিচার দিতে না পারায় শ্বশুর -শ্বাশুড়ি এবং জামাই শিরিনাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
ফার্ণিচার না দেয়ার কারণে নববধু শিরিনা ৪ মাস যাবত বাবার বাড়িতে আটক আছেন শুনে মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত সংবাদকর্মী এম মনসুর আলী শিরিনার মায়ের কাঁন্নাকাটির একটা ভিডিও সিংঙ্গাপুর প্রবাসী গরীবের বন্ধু স্বর্ণা রহমানকে মেসেঞ্জারে পাঠালে তিনি জামাইয়ের উপহার সামগ্রীর ত্রিশ হাজার টাকা দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন।
এবং রোববার সকালে স্বর্ণা রহমান বিকাশে সংবাদকর্মী এম মনসুর আলীর কাছে শিরিনা আক্তারের জন্য ত্রিশ হাজার টাকা পাঠান। স্বর্ণা রহমানের টাকা দানের গল্প শুনে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও শিরিনার মাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।

শিরিনার অসহায় মা নুরজাহান বেগম টাকাগুলো হাতে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন,মায়া (স্বর্ণা রহমান)তোমার জন্য দোয়া করি, মা-য়া। টাহাগুলো দেওয়ায় আমার অনেক উপকার হইছে মা-য়া।আমারে ৫ টাহা দেয়ার মানুষ এ জগতে নাই মা-য়া। তুমি আমারে দিছো, বহুত খুশি হইছি মা-য়া।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ