,

সরাইলের এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : অবৈধভাবে দখল করা খাল উদ্ধার করতে গিয়ে এক বৈধভাবে গড়ে উঠা বাড়ি খাল করার অভিযোগে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে।
কোন নোটিশ ছাড়াই উক্ত বাড়িতে তান্ডব চালিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে বাড়ি খননসহ শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয় তার নির্দেশে। এমন অভিযোগে বাড়ির মালিক সরাইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলাল উচ্চ আদালতে ক্ষতিপূণ চেয়ে রিট করলে তা শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

রিট আবেদনকারী ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলাল জানান, গত ৩০সেপ্টেম্বর কোন নোটিশ ছাড়াই তার বাড়ি-ঘরে উচ্ছেদের নামে ভাংচুর, খনন ও গাছপালা কর্তন করা হয়। এ ঘটনায় তিনি গত ১৩অক্টোবর হাইকোর্টে রিট (রিট পিটিশন নং-৭১৬৬) করেন। এর আগে ১১অক্টোবর সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, সরাইলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

রিট পিটিশন ও লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, ৩০সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কোন নোটিশ ছাড়াই সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা পুলিশ ফোর্সসহ অনেক শ্রমিক নিয়ে ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলালের বাড়িতে এসে বেকু দিয়ে মাটি খনন এবং করাত দিয়ে গাছগাছালি কাটতে শুরু করেন। এর কারণ জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার দুলালকে গ্রেফতার এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার হুমকী দেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওই অভিযানে ব্যবসায়ীর নিজের জায়গায় লাগানো ৯০ থেকে ১’শটি গাছ কর্তন করা হয়। পরে সেগুলো ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার এবং মানসিক ও আর্থিক ভাবে আরো ৩০লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী দুলাল। এছাড়া অভিযানে বিদ্যুত এবং গ্যাস সংযোগও ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়। অভিযানে যে জায়গাটি খনন করা হয় সেটি সরাইল-কালিকচ্ছ-নাসিরনগর রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত সিএনবি রোড এবং ভূমির রেকর্ডপত্রে সেটি নয়নজুড়ি শ্রেণীর বলে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আবেদনে এমন ঘটনার কারণ বর্ণনায় বলা হয় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ী দুলাল ও তার স্ত্রী (অবসরপ্রাপ্ত) মেজর রোজিনা ভূইয়ার অনুকূলে একটি বিএস রেকর্ড অনুযায়ী দাগ নাম্বার সংশোধন করার কাজে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সময়ক্ষেপন করেন। এর আগে কাজটি করার বিনিময়ে অবৈধভাবে নিজের চাহিদার কথা জানান। সেটি পূরণ না করায় সহকারি কমিশনার তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং পরবর্তীতে দেখে নেয়ার হুমকী দেন। তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা মামলার বিষয়ে কোন কিছু জানেননা বলে জানান।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ