,

শিরোনাম :
আখাউড়ায় মাটি খুঁড়তেই বের হলো ৩৪০টি বুলেট আশুগঞ্জ খাদ্য নিরাপদতা বিষয়ক সেমিনার সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির মানববন্ধন, পুলিশের বাঁধা আশুগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ৪৯তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফয়সালের কিডনি প্রয়োজন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আশার আলো’র পিঠা মেলা আশুগঞ্জ উপজেলা মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক আলফাজ, সদস্য সচিব দেবাশীষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির মানববন্ধনে পুলিশের বাধা তিন শতাধিক শীতার্তের মুখে হাসি ফুটাল ‘আশার আলো’ মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসতে পারে
আটক খুনি দেলোয়ার হোসেন : একুশে আলো।

আশুগঞ্জ সারকারখানার এমএলএসএস বাহার হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত, হত্যাকারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার এমএলএসএস মো. বোরহান উদ্দিন হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনায় বোরহানের হত্যাকারী বন্ধু মো. দেলোয়ার হোসেন (৪২) কে ঢাকার হাজারীবাগ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামী দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চরচারতলা এলাকার আশুগঞ্জ সার কারখানার আবাসিক কলোনীর এফ-১/এইচ নাম্বারের চারতলা ব্যাচেলর বাসা থেকে বোরহান উদ্দিনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন এসে বোরহানের লাশ সনাক্ত করেন। এই ঘটনার পরদিন ২ ডিসেম্বর নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ ফারুক (১৯) বাদি হয়ে আশুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘাতক দেলোয়ার পেশায় একজন হকার। সে ঢাকা নিউ মার্কেটের ২নং গেইটে মেয়েদের কামিজ (ওয়ানপিছ) এর হকারি করে। মৃত বোরহান উদ্দিন বাহারের সাথে তার ১৫ বছর আগে বন্ধুত্ব হয়। প্রায় সময় বোরহান উদ্দিন বাহারের সাথে আসামীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ ডিসেম্বর বিকালে ঘটিকায় বোরহান উদ্দিন বাহার ফোন করে দেলোয়ারকে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে আসতে বলে। দেলোয়ার ২৮ ডিসেম্বর রাতে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে পৌছায়। বোরহান উদ্দিন বাহার তাকে কলোনীর গেইট হতে রিসিভ করে তার কক্ষে নিয়ে যায়। ঐ দিন রাতে বোরহান উদ্দিন বাহার ও আসামী মিলে মুরগীর মাংস ও ভাত রান্না করে খাওয়া দাওয়া করে। খাওয়া দাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকালে বোরহান উদ্দিন বাহার দেলোয়ারকে তার অফিসে নিয়ে যায় এবং তার কলিগ সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। অফিস থেকে ফিরে বিকালে তারা ভৈরব ব্রিজ দেখতে যায়। রাতে রুমে ফিরে পূর্বের দিনের রান্নাকরা মুরগীর মাংস দিয়ে রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বোরহান উদ্দিন বাহার ও দেলোয়ার বোরহানের অফিসিয়াল কাজ করতে থাকে। যার মধ্যে ব্যাংকের চেকের কাজও ছিল। কাজ করতে করতে ৩০ ডিসেম্বর সকাল হয়ে যাওয়ায় বোরহানকে কাজ বন্ধ করতে বলে দেলোয়ার। এসময় বোরহান দেলোয়ারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং তাকে ধাক্কা দেয়। এতে দেলোয়ার উত্তেজিত হয়ে বোরহান উদ্দিন বাহারকে ধাক্কা দিলে খাটের সাথে লেগে বাহার আঘাত পেয়ে দেলোয়ারকে পুনরায় আঘাতের জন্য আসলে দেলোয়ার তাকে স্বজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘরের দেয়ালের সাথে লেগে বোরহান উদ্দিন বাহারের মাথার ডান পাশের পিছনে আঘাত লেগে রক্তাক্ত হয়। এসময় বোরহান উদ্দিন বাহার খাটের উপর উপুুড় হয়ে পড়ে যায়। আসামী দেলোয়ার তাকে ধরে খাটের দক্ষিণ পাশে ফ্লোরে শুইয়ে দেয়। বোরহান উদ্দিন বাহারের মাথার নীচে বালিশ দিয়ে তার শরীরে মালিশ করতে থাকে। এতে ভিকটিমের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে আসামী দেলোয়ার বাহিরে কেউ আছে কিনা দেখতে যায়। দেলোয়ার ফিরে এসে তার শরীরে হাত দিয়ে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে জেনে কম্বল ও কাঁথা দিয়ে মৃতদেহ মোড়িয়ে বাহির হতে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাহমুদ জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আসামী দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকার হাজারীবাগ একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামী দেলোয়ার দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ