,

ভারত থেকে আমদানি করা না হলে চালের দাম একশ টাকা কেজি হত : খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র দাস বলেছেন, সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে এই মুহুর্তে ভারত থেকে চাল আমদানি করা না হলে চালের দাম একশ টাকা কেজি হয়ে যেত। তিনি বলেন, যখন প্রয়োজন অনুভূত হবে না তখন আর বিদেশ থেকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করা হবেনা।
তিনি মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টিল রাইস সাইলোর নির্মাণকাজ ও ৫০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গম সাইলোর মেরামতকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
পরিদর্শকালে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১২) সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ), সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম শেখ, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দ বিশ্বাস বাপ্পী, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু নাসের আহমেদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লিমা সুলতানা, ব্রাহ্মণাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে সভাপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ মোঃ দাউদ অপি ও মতিউর রহমান সরকার প্রমুখ।

এসময় মন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। সরকারের নানান প্রতবিন্ধকতাও রয়েছে। দশ লাখ রোহিঙ্গাদের ভরন পোষণ দিতে হচ্ছে। তাই খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়ানোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য চলমান প্রকল্পগুলোকে তদারকি করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনটি নতুন সাইলো চালু করতে পারব বলে আশা করছি। কোভিডের কারণে কার্যক্রম কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত কার্যক্রম সমাপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সৎ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, এসব সাইলো হবে আন্তর্জাতিক মানের। দেশে যে খাদ্য গোডাউন (এলএসডি, সিএসডি) আছে, সেগুলো ফ্ল্যাট গোডাউন। এতে বস্তাবন্দি করে শস্য রাখা হয়। কিন্তু আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগারে সেটি করা হবে না। এতে মানসম্পন্নভাবে দীর্ঘদিন খাদ্য সংরক্ষণ করা যাবে। প্রাথমিকভাবে একটি সাইলোতে আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মান সম্পূর্ণ বজায় রেখে সংরক্ষণ করা যাবে। দেশের আরো কয়েকটি অঞ্চলে একই ধরনের সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে নানা ধরনের খাদ্যগুদাম নির্মাণ করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩৬ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার আটটি আধুনিক স্টিল সাইলো (চাল ও গম) নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। প্রথম অনুমোদনের সময় বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১ হাজার ৯১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। মূলত এসব সাইলোর মাধ্যমে ধারণসক্ষমতা প্রায় ২৬ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়।
দেশের আটটি অঞ্চলে সাইলোর মধ্যে ঢাকা স্টিল রাইস সাইলো (ঢাকা সিএসডি), নারায়ণগঞ্জ স্টিল রাইস সাইলো (নারায়ণগঞ্জ সিএসডি), মধুপুর স্টিল রাইস সাইলো (টাঙ্গাইল), বরিশাল স্টিল রাইস সাইলো (বরিশাল সিএসডি), ময়মনসিংহ স্টিল রাইস সাইলো (ময়মনসিংহ সিএসডি), মহেশ্বরপাশা স্টিল গমের সাইলো (মহেশ্বরপাশা সিএসডি), চট্টগ্রাম স্টিল গমের সাইলো (চট্টগ্রাম সাইলো) এবং আশুগঞ্জ স্টিল রাইস সাইলো (আশুগঞ্জ সাইলো)।
এসব প্রকল্পে এলাকার কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে বলে জানায় খাদ্য অধিদপ্তর।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ