,

শিরোনাম :
সরাইলে বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ সরাইলে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কসবায় যুবদলের আহবায়ক কমিটি বাতিলে ৭দিনের আল্টিমেটাম পদবঞ্চিতদের মেঘনার ভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে নবীনগরের মানচিত্র সরাইলে সালিশের রায় উপেক্ষো করে বাড়ি কিনে দখলের চেষ্টায় এলাকায় উত্তেজনা কসবায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি যুবলীগ নেতার, প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন বিজয়নগরে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু সরাইলে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানে বাধা, প্রকৌশলীর উপর হামলার চেষ্টা পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ড : ক্ষমা চাইলেন ২ বিচারক

আশুগঞ্জ কনটেইনার নদীবন্দর প্রকল্প : ৩০২ কোটি টাকা খরচ বাড়ছে

আশুগঞ্জ কনটেইনার নদীবন্দর প্রকল্প

খরচ ৩০২ কোটি টাকা বাড়ছে

সাড়ে তিন বছরের প্রকল্প এখন সাড়ে ৬ বছরে; দিতে হবে পরামর্শকদের ভ্যাট-ট্যাক্সও 

স্টাফ রিপোর্টার : অনেক সময় ক্ষেপণের পর শুরু করা হলেও নির্ধারিত মেয়াদে শেষ হচ্ছে না আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নদীবন্দর নির্মাণকাজ। সাড়ে তিন বছর মেয়াদের ভারতীয় ঋণের এই প্রকল্পটি এখন সাড়ে ছয় বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরামর্শকদের ভ্যাট ও আইটি পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খরচ বাড়ছে ৩০২ কোটি ২১ লাখ টাকা বলে নৌ পরিবহন মনন্ত্রণালয়ের সংশোধিত প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্প সমাপ্ত না হলে খরচ বাড়বেই। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে রেট শিডিউলও পরিবর্তন হয়। ফলে সেটার প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকা থেকে এখন এক হাজার ৫৯৫ কোটি টাকায় প্রস্তাব করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার তথ্য থেকে জানা গেছে, আশুগঞ্জ দিয়ে নদী পথে ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহারের জন্য আশুগঞ্জকে একটি ট্রানশিপমেন্ট বন্দরে পরিণত করা হচ্ছে। আর এ লক্ষ্যে সরকার ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকার তিন বছর মেয়াদে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর নির্মাণ প্রকল্প স্থাপনের নামে ট্রানশিপমেন্ট বন্দর নির্মাণকাজ ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন দেয়। ওই সময় তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, এটি নির্মিত হলে ভারতীয় কনটেইনারগুলো কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ নৌরুট হয়ে ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে বা সেভেন সিস্টার এলাকায় সহজেই প্রবেশ করতে পারবে। ভারতীয় ঋণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভারতের ব্যবহারে জন্য চুক্তি হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এতে করে নদী পথে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে আমরা ফুয়েল বহন করতে পারব।
তৎকালীন প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ভারত স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারে একটি প্রকল্প অন্যতম প্রকল্প। যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভারত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে এই প্রকল্পটি ভারতীয় ঋণের অর্থে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির জন্য ভারত ওই এক বিলিয়ন ডলারের অংশ থেকে ২১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণসহায়তা প্রদান করবে। আর বাংলাদেশ সরকার দেবে মাত্র ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা ছিল।
ডিপিপিতে বলা হচ্ছে, ভৌগলিক অবস্থানগত এবং নৌ-যোগাযোগে আশুগঞ্জের গুরুত্ব অনেক। ২০০৪ সালে আশুগঞ্জকে নদী বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি আশুগঞ্জ নৌবন্দরটিকে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রটোকলের আওতায় ‘পোর্ট অব কল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ওই প্রটোকলের ধারা ২৩ অনুযায়ী আশুগঞ্জ এবং শেরপুরে জাহাজ হতে খালাসকৃত পণ্য বাংলাদেশী ট্রাক বা ট্রেইলর যোগে সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পরিবহন করা যেতে পারে। ‘পোর্ট অব কল’ হিসেবে উভয় দেশের নৌযানের মালামাল লোডিং বা আনলোডিং সুবিধা প্রদান করবে। প্রটোকলের আওতায় আশুগঞ্জ বন্দর পর্যন্ত নৌপথে পরিবহনকৃত ভারতীয় মালামাল বাংলাদেশের ট্রাক বা ট্রেইলারের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারব। আশুগঞ্জ ও কলকাতা নৌরুটের মাধ্যমে কনটেইনার নৌ-ভেসেলের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে। আশুগঞ্জ থেকে কনটেইনারগুলো ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে আগরতলা পর্যন্ত পরিবহন করা হবে। শুধু কলকাতা-আশুগঞ্জ নৌরুটে বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিবাহিত হবে। আর এই বন্দরটি আপাতত এক লাখ টিইইউ কনটেইনার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন করে নির্মিত হবে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর দু’লাখ টিইইউ কনটেইনার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বন্দরে রূপান্তরিত হবে। আশুগঞ্জ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং সুবিধাদি স্থাপন করা হলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চলসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালে নেয়া প্রকল্পটি ভারতীয় প্রথম এলওসির অর্থায়নের প্রস্তাব ছিল। প্রকল্পের বিস্তারিত সমীক্ষা না থাকায় প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ভারত সরকারের মঞ্জুরি সহায়তায় ওয়াপকোস পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্বারা আশুগঞ্জের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ধারণাগত ড্রইং ডিজাইনসহ প্রকল্পটির উপর পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। পরে আগে ২০১১ সালের অনুমোদিত প্রকল্পটি বাতিল করে নতুনভাবে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা থেকে তখন ভারতীয় দ্বিতীয় এলওসির ঋণসহ মোট এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। যার মধ্যে ভারতীয় ঋণ ৪৩১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ৮৬২ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। অগ্রগতি কম হওয়াতে আরো তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, কিছু নতুন অঙ্গের সংযোজন, বিদ্যমান কিছু অঙ্গের খাত পরিবর্তন, ব্যয় হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের খরচ এক হাজার ৫৯৫ কোটি টাকায় প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে প্রকল্প সাহায্য খাতে বাড়ছে ২১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশ সরকারের খাতে অর্থায়ন বাড়ছে ৯১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা বাবদ ব্যয় বাড়ছে। সেবা খাতের খরচ ঋণের অর্থ থেকে বহনের পরিবর্তে জিওবি থেকে করার সিদ্ধান্ত। সিডি, এসডি, আইটি ও ভ্যাট খাতে খরচ ৪৬ কোটি ৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরামর্শক খাতে খরচ ২২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে পরামর্শক সেবা অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তিন বছর পর এসে প্যাকেজগুলো একত্র করা হয়েছে। এতে করে ব্যয় বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনা থেকে এখানে খরচ বাড়ছে ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মাঝপথে বা প্রকল্প মেয়াদ শেষের দিকে এসে প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে। এতে করে প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বলছে পরিকল্পনা কমিশন।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ