,

শিরোনাম :
সরাইলে বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ সরাইলে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কসবায় যুবদলের আহবায়ক কমিটি বাতিলে ৭দিনের আল্টিমেটাম পদবঞ্চিতদের মেঘনার ভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে নবীনগরের মানচিত্র সরাইলে সালিশের রায় উপেক্ষো করে বাড়ি কিনে দখলের চেষ্টায় এলাকায় উত্তেজনা কসবায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি যুবলীগ নেতার, প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন বিজয়নগরে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু সরাইলে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানে বাধা, প্রকৌশলীর উপর হামলার চেষ্টা পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ড : ক্ষমা চাইলেন ২ বিচারক

শিবপুরে নৌকার মাঝি হতে চান সমাজ সেবক সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘গ্রাম হবে শহর’ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ইউপি নির্বাচনে নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সংগঠক মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী। সে লক্ষ্যে স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ করে সরকারের প্রতিশ্রুতিশীল বিভিন্ন প্রকল্প অগ্রাধিকারভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।
নবীনগর উপজেলাসহ ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের গুরুদায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী ইতিমধ্যেই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের মাঝে শিবপুরকে বদলে দেয়ার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। ইউনিয়নবাসী সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

নির্ভেজাল আওয়ামী পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী উচ্চ শিক্ষিত ও একজন আদর্শ সংগঠক। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের রাজপথ কাঁপানো এই ছাত্রলীগ নেতা উপজেলার অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি দরিদ্র-অসহায়-অসুস্থদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নিজের কর্মগুণে গুণান্বিত শিবপুর ইউনিয়নের যুব সমাজের প্রিয়জন মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের সবচাইতে দক্ষ ও যোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১৯৭৫ সালের জুন মাসের ১৬ তারিখ ইউনিয়নের কনিকাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সোহরাওয়ার্দ্দিন। পিতার নাম মোঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী এবং মাতার নাম হাসনের হারা চৌধুরী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী প্রাথমিক এবং নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত কনিকাড়া গ্রামেই লেখাপড়া করেন। ১৯৯১ সালে নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশের পর নবীনগর সরকারী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। মূলত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি সেই থেকে শুরু। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করার অপরাধে সোহরাওয়াদ্দিন এর জীবনে উত্থান-পতন এসেছে বহুবার। কোনো কিছুকেই তিনি তোয়াক্কা করেননি। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সেই বছরই সাহিত্য পত্র সম্পাদক নির্বাচিত হন। অন্তর্ভুক্ত হন কলেজ ছাত্রলীগ কমিটির সম্পাদনা পরিষদের পরবর্তী সময়েও। দলের প্রতি নিবেদিত ও আন্তরিকতার ফলস্বরূপ দায়িত্ব পান নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির। উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ পিছিয়ে যায় একবছর। তবুও থেমে থাকেনি পড়াশুনা। পরিবারের চাপে ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। ছাত্র রাজনীতির ধারা অব্যাহত রেখে ১৯৯৭ সালে বিএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মোহাম্মদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এমএসএসে ভর্তি হন। বিভিন্ন সময় অবদান রেখে আসায় ‘উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ’ সমাজ কল্যান সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়। ছাত্র রাজনীতির শুরু থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান। ৯১ পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৯ইং সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুরো নবীনগর উপজেলাব্যাপী নৌকার পক্ষে প্রচারণার অংশগ্রহণ করেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণে সময়ের সাথে সাথে শিবপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে নৌকা মার্কায় জনসমর্থনও বাড়তে থাকে। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিএনপি বা সমমনা দলগুলোর প্রতিরোধ, বাধার সম্মুুখিন হয়েছেন, শিকার হয়েছেন হামলা-মামলার। হতোদ্যম হয়ে ঝিমিয়ে পড়েননি। যতবারই বাধা পেয়েছেন, সম্ভ্রান্ত পরিবারের অনুপ্রেরণায় ততবারই মাথা উঁচু করে দঁাড়িয়েছেন, এগিয়ে যান আরও এক ধাপ।  ইতিমধ্যে তিনি পৌঁছে গেছেন এক অন্য উচ্চতায়।

সবকিছু মিলিয়ে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, স্পষ্টবাদী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের এ সন্তানকেই ইউনিয়নবাসী দেখতে চান নৌকার মাঝি হিসেবে। যোগ্য, দক্ষ ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দ্দিনের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পারিবারিকভাবেই সোহরাওয়ার্দ্দিন এর পিতা ও চাচারা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতেই দলের সাথে সম্পৃক্ত। তার কাকা শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কমিটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সুনাম ও দক্ষতার সাথে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বড় ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন ছাত্র ঐক্যের নবীনগর উপজেলার আহ্বায়ক ছিলেন। মেঝো ভাই মোঃ জিয়াউদ্দিন চৌধুরী উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মোঃ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রমেই নিজেকে সীমিত রাখেন নি। সমাজকে বদলে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বহু সামাজিক সংগঠন। এতে জড়িয়েছেন এলাকার শিক্ষিত তরুণ ও পরিচ্ছন্ন যুবকদের। তারা বর্তমানে শিবপুর ইউনিয়নসহ উপজেলাজুড়ে বাস্তবায়ন করছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড। কণিকাড়া গ্রামের ছাত্র-যুবকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বর্ণালী বয়েজ ক্লাব। যার মাধ্যমে গরীব অসহায়-অসুস্থদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। ইতিমধ্যে এই সংগঠন প্রায় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠিত করেছেন শিবপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রিক সমাজ সেবামূলক সংগঠন ঢাকাস্থ শিবপুর ইউনিয়ন ফোরাম। এ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও ঢাকায় বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন তিনি। উপজেলার ছয় ইউনিয়নকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ‘নববিকাশ’। এই সংগঠনের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সোহরাওয়ার্দ্দিন ইতিমধ্যে এই সংগঠনের দ্বারা বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। এতে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন ছয় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগন। উপজেলাজুড়ে কাজ করছে ‘নবীনগর কল্যাণ সমিতি’। তিনি এতে ত্রান বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। করোনাকালে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে নবীনগর কল্যাণ সমিতি, সরকারের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় ইতিমধ্যে উপজেলাবাসীর প্রশংসা কুঁড়িয়েছে সংগঠনটি।

ইউনিয়নের আপামর জনতার সাথে কথা বলে কণিকাড়া গ্রামের এই সম্ভ্রান্ত পরিবারটি সম্পর্কে ষ্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। তারা একবাক্যে স্বীকার করেন- এই এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী পরিবারটির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেও তাদের অবদান ভুলে থাকার মত নয়। কণিকাড়াবাসী মনে করেন- সোহরাওয়ার্দ্দিন নির্বাচিত হলে বৈষম্য, সরকারি প্রকল্পের সঠিক ব্যবহার হবে। মাদক থেকে যুব-ছাত্র সমাজকে দূরে রাখতে সোহরাওর্দ্দিনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন- ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের চেয়ে কণিকাড়ার বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। দলীয় প্রধান যদি শিবপুর ইউনিয়নকে ডিজিটালাইশনে এগিয়ে নিতে চান, তাহলে অবশ্যই যোগ্য, দক্ষ ও ডিজিটালমনা মোঃ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দিতে হবে। ইউনিয়নকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্তকরণে সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরীর বিকল্প নেই বলে তারা উল্লেখ করেন। সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে গ্রামবাসী বিশ্বাস করেন। এলাকার শিক্ষিত ছাত্র-যুবকদের প্রিয় মুখ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন পেলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেনÑ এ কথা বলে কয়েকজন ছাত্র-শিক্ষক বলেন- তিনি ইতিমধ্যে এলাকার উন্নয়ন, আঞ্চলিক নানা রকম বিরোধ এবং শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সংগঠক মোঃ সোহরাওয়ার্দ্দিন চৌধুরী বলেন- ‘আমার পিতা-কাকাসহ আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামী ঘরানার। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের পরিবার আওয়ামী প্রাণ। আমার পিতা-কাকাসহ ভাইদের অনুকরণেই আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে উপজেলা যুবলীগে উঠে এসেছি। গ্রামের সামাজিক অবস্থান বদলেও কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচিত চেয়ারম্যান হতে পারলে শিবপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও শিক্ষা সম্প্রসারণে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব। তিনি বলেন- অনেক আগে থেকেই এখানে আঞ্চলিক নানা বিরোধ আছে- যার কারণে সামাজিকভাবে এখনো পিছিয়ে শিবপুর। কোনো জনপ্রতিনিধিই এ বিষয়ে কাজ করেন নি। আমি শিবপুর ইউনিয়নকে উন্নয়নের সড়কের সাথে সংযুক্ত করতে চাই, বদলে দিতে চাই সামাজিক পরিবেশ। আশা করি দলীয় নীতি-নির্ধারকরা ত্যাগী, যোগ্য ও দক্ষদের মূল্যায়ন করবেন।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ