,

শিরোনাম :
আশুগঞ্জে ৮০ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন কনসেনটেটর দিল আতাউর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন আশুগঞ্জে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর হেফাজতের উপর ভর করে হামলা করেছে বিএনপি-জামাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন, হেফাজতের সকল সংবাদ বর্জনের ঘোষণা  আশুগঞ্জে হরতালে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন শিউলি আজাদ এমপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হরতাল : সংঘর্ষ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত আরো ৪ স্বেচ্ছায় রক্তদানে সকলকে উৎসাহী করে তুলতে হবে : অরবিন্দ বিশ্বাস চট্টগ্রাম বিভাগীয় জয়িতা নির্বাচিত হওয়ায় নিশাত সুলতানাকে সংবর্ধনা দিল ‘আশার আলো’ আশুগঞ্জে ১শ ১০ পাউন্ডের বিশাল কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পালন

ভোটের হাওয়া : লালপুর ইউপি নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি ?

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের মার্চ থেকে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। গতবারের মতো এবারও কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউপির ভোট। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকে তপশিল ঘোষণার করবে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন নিয়ে রয়েছে গ্রাম-গঞ্জে উচ্ছ্বাস, আছে শঙ্কা আর উৎকণ্ঠাও। এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীরা।
আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা গণসংযোগসহ নানামুখী নির্বাচনী ও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়নটিতে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় এবং দলটির রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আগামীদিনের ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে শুধু আওয়ামীলীগ নেতাদের নামই আলোচনায় রয়েছে।
তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একাংশের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল খায়ের, সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোরশেদ মাস্টার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, অন্য অংশের সাধারণ সম্পাদক এস আলম ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাকের আহমেদ খান।
তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের বিভক্তির জের হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগেও রয়েছে ষ্পষ্ট বিভক্তি। কাউন্সিল করে দলটির ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হলেও জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং এর ফলে পূণরায় কাউন্সিল করে আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ফলে একটি অংশ থেকে নৌকার মানোনয়ন পেলে অপর অংশ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠ জমে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন লালপুর ইউনিয়নের নৌকার মাঝি এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকা সরগরম হয়ে উঠছে। চলছে নানান জল্পনা ও চায়ের দোকানের আড্ডায় বিশ্লেষণ।
বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই নিউনিয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন, তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মোরশেদ মাস্টার। কিন্তু উক্ত নির্বাচনে তৎকালীন সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই সময়ে আওয়ামীলীগের দূর্গখ্যাত লালপুর ইউনিয়নে নৌকার পরাজয়ের কারণ নানাভাবে বিশ্লেষ করেছেন চিন্তাশীলরা। তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের তেমনভাবে পড়েনি। এছাড়া প্রতিদ্বন্ধি দুজন প্রার্থীই ছিলেন আওয়ামীলীগের। এরমধ্যে নৌকার প্রার্থী মোঃ মোরশেদ মাস্টার পরপর দুই মেয়াদ ও ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে একাধারে ১৪ বছর চেয়ারম্যান পদে অধিষ্টিত থাকায় শালিস সভাসহ বিভিন্ন ভূমিকার কারণে তার ব্যাপারে সমালোচনা করার সুযোগ ছিল। অন্যদিকে পরপর দুইবার পরাজিত হবার কারণে সাধারণ ভোটারদের সহানুভতি ও অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে বিশাল জনসমর্থন আবুল খায়েরের দিকে ঝুঁকেছিল। এবার এই দুই হেভীওয়েট প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন চাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আবুল খায়ের বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনসহ দলের দুর্দীনে দলের পক্ষে কাজ করেছি। বিগত দুটি ইউপি নির্বাচনে চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম হয়েছি। তাই নৌকার মনোনয়ন চাওয়া আমার ন্যায়সংঘত দাবি। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও নিজেকে বিদ্রোহী বলে মানতে নারাজ তিনি। তার প্রশ্ন, ‘বিগত নির্বাচনে আমিতো দলীয় মনোনয়নই চাইনি তাহলে বিদ্রোহী হলাম কীভাবে?’ দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘নৌকা না পেলেও জনগণ চাইলে অবশ্ব্যই নির্বাচন করব।’
সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোরশেদ মাস্টার বলেন, বিগত ১৪ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এখনো এলাকার বিভিন্ন সালিশ সভাসহ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। স্বাধীনতার পর থেকে দলের দুর্দীনে-সুদিনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে অধিষ্টিত থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি। এখনও দলের মূল জান্ডা আমাদের হাতেই। তাই, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকেই নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চায়। এলাকার একটি গোষ্ঠীগত দ্বন্ধের প্রেক্ষাপটে ভুলবুঝাবুঝির কারণে বিগত নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার আমার পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে ইনশাআল্লাহ’। তবে দলীয় আনুগত করেন বলেই তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেলে প্রার্থী হবেন না বলে জানান। একটি স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের বিরোধীতা করেছে, আমরা কেবল নিরব ছিলাম মাত্র।’
এদিকে লালপুরের জনসমর্থন আবুল খায়ের ও মোরশেদ মাস্টার এই শিবিরে এ দুজনের বাইরেও নতুনমুখ খুঁজছে জনগণের একটি বিশাল অংশ। বয়োজ্যাষ্ট হিসেবে এই দুজনকে তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া উচিৎ। তরুণদের কেউ দায়িত্ব পেলে ভাল করবেন বলে এ অংশের ধারনা। সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি উঠে আসা নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ছিলেন যুবলীগেও। দীর্ঘদিনের রাজনীতি ও ব্যবসার সুবাধে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজনের সাথে তার রয়েছে সুসম্পর্ক। খলিলুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিঃস্বার্থে কাজ করে আসছি। দলের কাছে কখনো কোন সুবিধা চাইনি।’ নৌকার মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় রয়েছে ভৈরব হাজী আসমত কলেজ ছাত্রলীগের একসময়ের তুখোড় নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক এস আলমের নামও। ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে হিসেবে তার একটি গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। তিনি ব্যবসায়িক সুবাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করলেও এলাকার তৃণমূল নেকর্মীসহ জনগণের সাথে নিয়মিত এসে যোগাযোগ করছেন। বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করছেন। নৌকার মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
আলোচনায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ বাকের আহমেদ খান। বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকের সন্তান বাকের আহমেদ খান এলাকার তরুণ ও যুবসমাজের প্রিয়মুখ। লালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছাড়াও তিনি ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ এর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্টিত রয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রচলিত গ্রুপিং এর বাইরে তার একটি সার্বজনীন গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বাকের আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের মুরুব্বীদের আমরা সম্মান করি, সমীহ করি। কিন্তু এখন তারুণ্যের যুগ। মুরুব্বীরা যদি তরুণদের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দেন তাহলে একটি সমাজ বিপ্লব করা সম্ভব।’ নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয়ী হয়ে লালপুরকে মডেল ইউনিয়নে পরিনত করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন। দলের মনোনয়ন নিতে জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ পেতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে ঘরোয়া বৈঠকসহ সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন। চলছে নানামুখী গ্রুপিং-লবিং। চায়ের স্টল ও স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা ও বিচার-বিশ্নেষণ।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ