,

শিরোনাম :
আশুগঞ্জে ৮০ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন কনসেনটেটর দিল আতাউর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন আশুগঞ্জে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর হেফাজতের উপর ভর করে হামলা করেছে বিএনপি-জামাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন, হেফাজতের সকল সংবাদ বর্জনের ঘোষণা  আশুগঞ্জে হরতালে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন শিউলি আজাদ এমপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হরতাল : সংঘর্ষ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, নিহত আরো ৪ স্বেচ্ছায় রক্তদানে সকলকে উৎসাহী করে তুলতে হবে : অরবিন্দ বিশ্বাস চট্টগ্রাম বিভাগীয় জয়িতা নির্বাচিত হওয়ায় নিশাত সুলতানাকে সংবর্ধনা দিল ‘আশার আলো’ আশুগঞ্জে ১শ ১০ পাউন্ডের বিশাল কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পালন

টানা ৪১ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল কসবার ১৭ কিশোর

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাকালে ঈমান ও আমলের উপর হৃদয়গ্রাহী খুতবা দেয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আড়াইবাড়ির মরহুম পীর আল্লামা গোলাম সারোয়ার সাঈদী। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন তার মসজিদে যে কজন তরুণ টানা ৪১দিন প্রতি ওয়াক্ত নামজ তাকবীরে উলার সাথে আদায় করতে পারবে এবং নামাজে পঠিত কুরআনে কারীমের দশটি সূরা সহি-শুদ্ধভাবে মুখস্থ করতে পারবে তাদেরকে তিনি একটি করে বাইসাইকেল পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করায় তার এই ঘোষণা তিনি বাস্তবায়ন করে যাবার সুযোগ পাননি। তবে নামাজের জামায়াত ছাড়েনি কসবার আড়াইবাড়ির ১৭ কিশোর। শুধু টানা ৪১ দিনই নয় এখন নামাজের জামায়াত ক্বাজা হচ্ছেনা তাদের। সহি-শুদ্ধভাবে মুখস্থ করেছে নামাজে পঠিত কুরআনে কারীমের দশটি সূরাও। পীর সাহেব হুজুর দুনিয়ায় বেঁচে না থাকলেও পুরষ্কার বঞ্চিত হয়নি জামায়াতে নামাজ আদায়কারি এ কিশোরেরা। ১৭ কিশোরকে বাইসাইকেল প্রদান করেছেন মরহুম গোলাম সারোয়ার সাঈদীর ছেলে পীরজাদা গোলাম সোবহানী।
শুক্রবার বাদ জুমা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিকট এসব বাইসাইকেল তুলে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আড়াইবাড়ি সাঈদীয়া ইসলামীয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. সাঈফ মুহাম্মদ ফারুক, সহকারি অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন ও কসবা পৌরসভার কাউন্সিলর শেখ মুবারক হোসেন প্রমুখ।
পুরষ্কারপ্রাপ্ত কিশোররা জানান, মরহুম পীর সাহেব হুজুরের ঘোষণায় তারা জামায়াতে নামাজ আদায়ে উদ্বূদ্ধ হলেও তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই জামায়াত ক্বাজা করছে না। বিভিন্ন কারণে টার্গট পূরণ করতে না পারলেও পীর সাহেবের এ ঘোষণার পর এলাকার অনেক কিশোরই নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায় করছে বলে তারা জানাই।
এ ব্যাপারে পীরজাদা গোলাম সোবহানী জানান, তার পিতার এ ঘোষণাকে বাস্তবায়ন করতে এলাকার দানশীল ব্যক্তিরা তাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতের জন্যও এ ঘোষণা বলবৎ থাকবে।
শিশু-কিশোরদেরকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের অনুকরণে মরহুম পীর সাহেব হুজুরের ঘোষণার পর থেকে অনেক কিশোর মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু করে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসার রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেয়া হতো। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকতো তখন তার গণনা বন্ধ করে দেয়া হতো। তবে সে চাইলে তার নাম আবার লিখিয়ে নতুন করে নামাজের দিন গণনা শুরু করতে পারত। এভাবে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ১৭ জন বিজয়ী হয়। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে তাদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। বরং সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালাও শেখানো হয়, সেই সঙ্গে তালিম-তরবিয়ত এবং নামাজের প্রতি মানুষকে আহবানের পাশাপাশি দ্বীনি ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

     এ ক্যটাগরীর আরো সংবাদ